আইসিএসির প্রতিবেদন

বিশ্বব্যাপী তুলার মজুদ ১৩ বছরের সর্বনিম্নে

বিশ্বব্যাপী ২০২৪-২৫ (আগস্ট-জুলাই) মৌসুমে তুলার সমাপনী মজুদ ২০১১-১২ মৌসুমের পর সর্বনিম্নে নেমে এসেছে।

বিশ্বব্যাপী ২০২৪-২৫ (আগস্ট-জুলাই) মৌসুমে তুলার সমাপনী মজুদ ২০১১-১২ মৌসুমের পর সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। ইন্টারন্যাশনাল কটন অ্যাডভাইজরি কমিটি (আইসিএসি) জানিয়েছে, চীনে তুলার মজুদ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়াই মজুদ হ্রাসের মূল কারণ। খবর ফাইবার টু ফ্যাশন।

সংস্থাটির প্রকাশিত প্রতিবেদনের অক্টোবর, ২০২৫ সংস্করণ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী তুলা উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২ কোটি ৫৪ লাখ ৩০ হাজার টনে। এ সময় পণ্যটির ব্যবহারের পরিমাণ হতে পারে ২ কোটি ৫৪ লাখ টন।

সংস্থাটি আরো জানায়, সম্প্রতি সমাপ্ত মৌসুমে বিশ্বব্যাপী তুলার মজুদ ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫৩ লাখ ৭০ হাজার টনে। এর মধ্যে শুধু চীনে পণ্যটির মজুদ ৯ শতাংশ কমে ৭৮ লাখ ৯০ হাজার টনে নেমেছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, নিজস্ব মজুদের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ায় চীনের তুলা আমদানি ৬৫ শতাংশ কমে মাত্র ১১ লাখ টনে নেমেছে।

আইসিএসি আরো জানায়, চীনের বাইরে ২০২৪-২৫ মৌসুমে তুলার মজুদ ২ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নমুখী চাহিদার কারণে এ সময় পণ্যটির মজুদ ৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ১৭ হাজার টনে। অনুকূল আবহাওয়ার প্রভাবে উৎপাদন বৃদ্ধি ও রফতানি কমে যাওয়ায় ব্রাজিল ও পশ্চিম আফ্রিকায়ও তুলার মজুদ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ২০২৫-২৬ মৌসুমের বিশ্বব্যাপী তুলা উৎপাদন ও চাহিদা সম্পর্কিত প্রাক্কলন গত মাসের পূর্বাভাসের তুলনায় প্রায় একই থাকবে বলে জানিয়েছে আইসিএসি। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ মৌসুমে চীন টেক্সটাইল খাতের জন্য দুই লাখ টন তুলা কম শুল্কে আমদানির অনুমোদন দিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় সমান। অতিরিক্ত আমদানির চাপ কমিয়ে টেক্সটাইল খাতে তুলার ঘাটতি পূরণ করতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইসিএসির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী তুলার দাম প্রতি পাউন্ডে ৬৩-৯৭ সেন্টের মধ্যে থাকতে পারে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী ২০২৫-২৬ মৌসুমে তুলা উৎপাদন, ব্যবহার ও বাণিজ্য বাড়তে পারে। তবে এ সময় কমতে পারে পণ্যটির প্রারম্ভিক ও সমাপনী মজুদ।

সংস্থাটির বৈশ্বিক সরবরাহ ও চাহিদা প্রাক্কলন (ডব্লিউএএসডিই) শীর্ষক প্রতিবেদনের সেপ্টেম্বর সংস্করণ অনুযায়ী, চীন, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ায় তুলা উৎপাদন বাড়ায় তুরস্ক, মেক্সিকো ও পশ্চিম আফ্রিকার কিছু দেশের উৎপাদন হ্রাসের প্রভাব কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। এ সময় বিশ্বব্যাপী পণ্যটির মোট উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ১১ কোটি ৭৬ লাখ ৮০ হাজার বেলে (প্রতি বেলে ৪৮০ পাউন্ড বা ২১৭ দশমিক ৭ কেজি)। এটি আগের দেয়া প্রাক্কলনের তুলনায় প্রায় ১০ লাখ বেল বেশি।

২০২৫-২৬ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী তুলার ব্যবহার নিয়ে ইউএসডিএর দেয়া পূর্বাভাসও প্রায় ৮৫ হাজার বেল বাড়ানো হয়েছে। এ সময় বৈশ্বিক ব্যবহার দাঁড়াতে পারে ১১ কোটি ৮৮ লাখ ৩০ হাজার বেলে। এটি আগের দেয়া পূর্বাভাস ১১ কোটি ৭৯ লাখ ৯০ হাজার বেলের তুলনায় বেশি।

আরও